Join Us On Facebook

Please Wait 10 Seconds...!!!Skip

ধর্মনিরপেক্ষতা এবং আগামী প্রজন্ম

‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়’ ---- বড়ই আপাতঃমধুর একটি স্লোগান যা শোনেনি এমন বাংলাভাষী বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু বক্তার পরিচয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে কথাটা আদৌ সত্য কী না এ বিষয়ে খুব কম লোকই মাথা ঘামান। ‘বক্তার পরিচয়’ শব্দ দুটো এজন্য চয়ন করলাম কারণ ঐ স্লোগানটি যারা সবচে বেশী আওড়ে থাকেন, তারা সমাজের ‘হাই-ফাই’ শ্রেণী । তাদের অনেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এম.পি., কেউ কেউ লেখক, কেউ বিজ্ঞানী, কেউবা ভার্সিটির শিক্ষক ইত্যাদি। আর হুজুগে বাঙালীর চরিত্র হল নেতা গোচের লোকেরা কিছু বললে ঐ কথাকে চোখ-কান বুজে গ্রহণ করা। সাধে কি আর সোনার বাংলার এই দুরবস্থা ! তাই দেখা যাচ্ছে যে, কাঙ্খিত কিংবা অনাকাঙ্খিত যাই হোক না কেন ‘ধর্মনিরপেক্ষতা (secularism)’ নামক মতবাদটি ক্রমশঃ বিস্তার লাভ করছে। কিন্তু এই বিস্তার কি গোলাপের সুবাসের বিস্তার না কি প্রাণঘাতী AIDS ভাইরাসের বিস্তার, এইটি হল দুশ্চিন্তার বিষয়। আসুন আমরা খোলা মন আর চোখ দিয়ে মতবাদটিকে জানতে চেষ্টা করি।


‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-কে ইংরেজিতে secularism বলে। কিন্তু একটি সহজ সত্য হচ্ছে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-কে ইংরেজিতে secularism শব্দে অনুবাদ করা হয় নি, বরং ইংরেজি secularism কে বাংলাতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ দ্বারা অনুবাদ করা হয়েছে । যে বা যারা তৈরি করেছেন তারা secularism নামক মতবাদটি তৈরি করেছেন । আর যারা এটাকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন তারা বুঝে অথবা না বুঝে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি তৈরি করেছেন।

 সংবাদপত্রের পাতা বিস্তারিত আলোচনার জায়গা নয় । তাই ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে সামান্য একটু আলোচনা করব। তবে যে কেউ প্রশ্ন করতে পারে, “ আপনার ব্যাখ্যার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু ?” বিতর্কে না গিয়ে বিনয়ের সাথে বলতে ইচ্ছুক যে আমার আলোচনায় একটি সর্বস্বীকৃত সার্বজনীন রীতি অনুসরণ করব। রীতিটি হলঃ যে কোন মতবাদের ক্ষেত্রে মতবাদের যিনি প্রবক্তা তার বক্তব্যই চূড়ান্ত বলে ধর্তব্য। অনুবাদক এবং ব্যাখ্যাদানকারীর বক্তব্য মূল প্রবক্তার কথার সাথে সাংঘর্ষিক হলে যিনি প্রবক্তা তার বক্তব্যকেই গ্রহণ করা হয়। আমরা এর ভিত্তিতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-কে তথা secularism-কে জেনে নেব।

প্রথম প্রয়োগ : ( ইতিহাসে যতটুকু জানা যায় ) ১৮৪৬ সালে।
প্রবক্তা : মূলতঃ George Jacob Holyoake এবং পরবর্তীকালে Charles Bradlaugh সহযোগী হয়ে ব্যাপক প্রচারে ভূমিকা রাখেন।

secularism এর সংজ্ঞা / অর্থ :
ইংরেজি secularism এর বাংলা প্রতিশব্দ কি হতে পারে ? চট করে বলা হবে, এতো করাই আছে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ’। কিন্তু এই শব্দটি অস্পষ্ট। এত্থেকে secularism এর আসল মানে বের করতে অনেক বেগ পেতে হয়। কেন? সে কথা বলার আগে সরাসরি জেনে নি ইংরেজি ভাষায় secularism শব্দটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়। secularism বলতে বুঝায়ঃ

(১) : indifference to or rejection or exclusion of religion and religious considerations .
(২) : a view that religion and religious considerations should be ignored or excluded from social and
political matters. (৩) : secular spirit or tendency, esp. a system of political or social philosophy that rejects religious
faith and worship.
(৪) : philosophy , a doctrine that rejects religion, esp in ethics .
(৫) : the attitude that religion should have no place in civil affairs.

[ সুত্রঃ Google এ গিয়ে secularism লিখে অনুসন্ধান করলে যে কেউ উপরোক্ত অর্থসমূহ খুঁজে পাবে। তাই সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া থেকে বিরত রইলাম।]

সবগুলো সংজ্ঞা থেকে কি প্রতিপাদ্য হয় ?
এই প্রশ্নের সর্বসম্মত উত্তর তো এটাই হয় যে, secularism মানে ‘ধর্ম বর্জন করা’ কিংবা ‘ধর্মহীন হওয়া’, এক কথায় ‘ধর্মহীনতা ’।
কিন্তু গোল বাঁধল এইখানে। বাংলাদেশের জনগণ ধর্মপ্রাণ । ৮০% এর বেশী মুসলমানের আর প্রায় ২০% অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের এই দেশে ‘ধর্মহীনতার’ প্রসার ঘটানো কি এতই সহজ ? অতএব, দরকার পড়ল একটি আকর্ষণীয় সুদৃশ্য মোড়কের যার ভেতরে পরিবেশিত হবে ‘ধর্মহীনতা’ নামক জঘন্য মতবাদটি।
 

এবার ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটার দিকে নজর দেয়া হোক। বাংলা ভাষায় অন্ধকার নির্দেশক যত শব্দ আছে, তার সব কয়টিই ঋণাত্মক চেতনা সৃষ্টি করে। কিন্তু ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি বড়ই অদ্ভুত! এটিতে আছে আলোর প্রলেপ, কিন্তু এটি আলো নয় যে আলো ছড়াবে। এটি চক চক করে, কিন্তু স্বর্ণ নয়। ধন্যবাদ দিই ঐ সুচতুর ধূর্ত অনুবাদককে যিনি বাংলা প্রতিশব্দ রূপে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি আবিষ্কার করেছেন। সবচাইতে সহজ অর্থটি যদি নেয়া হয়, তবে ‘নিরপেক্ষ’ বলতে বুঝায় ‘এমন কেউ যে কোন পক্ষে নেই ’। সুতরাং একজন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ব্যক্তি বলতে বুঝাবে ‘এমন কোন ব্যক্তি যে কোন ধর্মের পক্ষে নেই’ অর্থাৎ ‘পাক্কা ধর্মহীন’। কিন্তু এভাবে মাথা ঘামিয়ে ভাবার অবকাশ কয়জনের আছে ? তদুপরি বাঙালী মানে একটি সোজা সরল হুজুগে জাতি। এই জাতিকে ধোঁকা দেয়া খুবই সহজ। ইতিহাস সাক্ষী, কালের পরিক্রমায় এই জাতি অনেকবার ধোঁকা খেয়েছে। অতএব, খুবই চাতুর্যের সাথে secularism শব্দটির অনুবাদ করা হল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। কারণ ‘নিরপেক্ষ’ ‘নিরপেক্ষতা’ ইত্যাদি শব্দের প্রতি চরম অসৎ মানুষটিরও দুর্বলতা আছে। নিজে যে পক্ষেরই হোক, অন্যকে স্বপক্ষে না পেলেও অন্ততঃ নিরপেক্ষ দেখতে চায় সকলে। অতএব, ‘ধর্মহীনতা ’ চালু করতে হলে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ অপেক্ষা যুৎসই আর কোন শব্দ নেই। 
বলিহারি বুদ্ধি বটে! সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না। প্রসার ঘটতে লাগল ‘ধর্মহীনতার’, কিন্তু ঢোল বাজতে শুনা গেল ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’। প্রতারণার ক্ষেত্রে ষোলআনাই সফল।

তারপরও কিছু গোঁ ধরা লোকের অভাব নেই যারা বলে বেড়ায় “ secularism মানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ আর ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ মানে ‘ধর্মহীনতা’ নয়।” তাহলে শুনা যাক Bradlaugh এর বক্তব্য : "Although at present it may be perfectly true that all men who are Secularists are not Atheists, I put it that in my opinion the logical consequence of the acceptance of Secularism must be that the man gets to Atheism if he has brains enough to comprehend. ( অর্থঃ আপাততঃ এটা সম্পূর্ণ সত্য যে, সকল secularist নাস্তিক নয় । তবে আমি এই মত পোষণ করি যে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক secularism গ্রহণ করার অনিবার্য পরিণতি হবে ঐ ব্যক্তি কর্তৃক নাস্তিকতাকে গ্রহণ করা যদি সে প্রকৃতভাবেই secularism কে উপলব্ধি করে থাকে ।) প্রবক্তাই যখন একথা বলছেন তখন সেখানে মতবাদের ধারক বাহকদের কথার কি আর মূল্য আছে ? আমরা কার বক্তব্যকে যথার্থ বলে বিবেচনা করব ? secularism এর প্রবর্তকের ? না কি secularism আমদানিকারীর ?

সুতরাং ‘ইসলাম’ ও secularism যে একত্রিত হতে পারে না, এমন কি পাশাপাশি চলতেও পারে না, অথবা অন্যভাবে বললে একজন মু’মিন-মুসলমান যে কস্মিনকালেও secular পারে না ( বা বিপরীতক্রমে, একজন secular কক্ষনো মুসলমান হতে পারে না ) একথা অনুধাবন করার জন্য মস্তবড় চিন্তাবিদ হওয়ার দরকার হয় না। বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। ইসলাম এবং secularism শতভাগ বিপরীত ; একটির দিকে যতটুকু ঝুঁকা হবে, অন্যটি থেকে ততটুকু দূরে সরে যেতে হবে। এবারে কল্পনা করতে চেষ্টা করি একজন ধর্মহীন বা সেকুলার(secular) ব্যক্তি কেমন হবে?

(১) সকল ধর্মে আছে, “ মিথ্যা বলা মহাপাপ। মিথ্যা বলিও না।”
ধর্মহীনের নিকট পাপ বলে কিছু নেই। অতএব, মিথ্যা বলতে তার বাঁধে না ।
(২) ‘গুরুজনকে মান্য’ করার কথা সব ধর্মেই স্বীকৃত ।
ধর্মহীনরা হবে এটার বিপরীত। সোজা কথায় বেয়াদব হওয়াটা তাদের কাম্য ।
(৩) ‘মাতাপিতাকে সম্মান’ করতে সকল ধর্মেই আদেশ দেয়া হয়েছে।
ধর্মহীনরা শিখছেন এবং শিখাবেন মাতাপিতাকে অসম্মান করতে।
(৪) চুরি-ঘুষ-পরার্থ অপহরণ সকল ধর্মেই অপরাধ ও নিষিদ্ধ ।
এতসব ধর্মীয় অনুশাসন ধর্মহীনরা কক্ষনো মানবেন না ।
(৫) জীবে দয়া করার কথা সকল ধর্মেই আছে।
ধর্মহীনরা হবে এটার বিপরীত: নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী ।
(৬) দেশপ্রেম কে সকল ধর্মেই উৎসাহিত করা হয়েছে ।
ধর্মহীনদের কাছে দেশ প্রেমের কোন বালাই নেই ।

আপাততঃ থাক এটুকুতেই। একজন ধর্মহীন ব্যক্তির চরিত্র আমরা অনুধাবন করতে পারি: মিথ্যুক-প্রতারক-নিষ্ঠুর-বেয়াদব-চোর-গাদ্দার যদিও ওরা প্রচুর পরিমাণে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের এবং প্রযুক্তি বিদ্যার অধিকারী হয়ে থাকে । এ কি শুধুই তত্ত্ব কথা ? বাস্তবে কি আমরা এর প্রমাণ পাই নি ? আমরা কি দেখিনি মাসের পর মাস সেকুলার তরুণ কর্তৃক রাস্তা-ঘাট দখল করে নর্তন-কুর্দন করতে, শরাব পিয়োতে আর গাজায় টান দিতে ? আর এ জাতিয় কর্মকাণ্ডে উৎসাহ এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা একটি সেকুলার প্রশাসনের দ্বারাই সম্ভব । সেকুলার মন্ত্রী পারেন ঘরে ঘরে ঢুকে গণহত্যা চালানোর আহবান জানাতে ।

সেকুলার ডাক্তারদের পক্ষে সম্ভব আঘাতে আঘাতে আহত রক্তস্নাত পথচারীকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসা বাদ দিয়ে রাজনিতিক পরিচয় নিয়ে মাথা ঘামাতে । সেকুলার শিক্ষকের রুচিতে বাঁধে না মিথ্যা বলার অধিকার আদায়ের জন্য আহবান জানাতে । সেকুলারদের চরিত্র সম্পর্কে আর বিশদ জানতে হলে মিসরের সেনাবাহিনীর দিকে তাকানো যাক। তারা কি করছে বিশ্ববাসী জানছে। সেকুলার হওয়ার কারণেই তারা এত নির্মমতা দেখাতে পেরেছে । সেকুলার সৈন্যরা পারে মুখে দেশপ্রেমের বুলি আওড়াতে আওড়াতে শত্রুর স্বার্থ রক্ষা করতে। কিন্তু একজন খাঁটি ধার্মিক সেনা দেশের জন্য জান দিতে পরোয়া করে না। একটি সেকুলার সেনাবাহিনীর পক্ষেই সম্ভব স্বদেশের ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র জনতাকে পিঁপড়ে মারার মত মেরে ফেলতে । অথচ ধার্মিক ঈসা খাঁ যুদ্ধের ময়দানেও পারেননি শ্ত্রু মানসিংহকে নিরস্ত্র পেয়ে আঘাত করতে। সেকুলার বিচার ব্যবস্থায় সম্ভব হার্টের বাইপাস করা সত্তরোরধ বৃদ্ধকে রিমান্ডে নেয়া আর শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছেড়ে দেয়া। সেকুলার আদালতই পারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করতে। আদালতের পবিত্র আঙিনায় দাঁড়িয়ে মানবজাতির মাথা হেট হয়ে যাবার মত কথা, “Truth is no defense”, একজন সেকুলার বিচারকই পারে সদম্ভে উচ্চারণ করতে।

এরপরও কি secularism কাম্য ? আগামী প্রজন্ম যেন secular তথা ধর্মহীন হয়, সে স্লোগান দেব ?
পরিশেষে ছোট্ট একটি কথা । নিজের পাণ্ডিত্য ঝাড়ার জন্য এই নিবন্ধ লিখি নি। এ সকল কথা অনেকের জানা আছে। যারা একমত হচ্ছেন কিম্বা দ্বিমত করছেন সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ। তবে দ্বিমত পোষণকারীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, দ্বিমতটা গায়ের জোরে না করে একটু দলিল-পত্র দিয়ে করলেই কৃতজ্ঞতা বোধ করব। আর মন খুলে গালি-গালাজ করলে ‘সবর’ ছাড়া করার কী বা আছে । কারণ সেকুলার কিংবা ধর্মহীন-দের চরিত্রই হল অন্যদেরকে গালি-গালাজ করা। অন্যদিকে যারা সহমতওয়ালা তাদের সমীপে অনুরোধ নয়, বরঞ্চ দুটো আবেদন:

(১) secularism এর অর্থ ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ না বলে আমরা ‘ধর্মহীনতা’ বলতে অভ্যস্ত হই যাতে প্রজন্ম বিশুদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী হয় ( বিখ্যাত কলামিস্ট জনাব এরশাদ মজুমদার এই কাজটি ইতোমধ্যে শুরু করেছেন ) ; এবং
(২) ধর্মহীনতাকেও ‘না’ বলি ।
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সোনার বাংলা ধর্মহীনদের জন্য নয়, এটা মুসলিম- হিন্দু-বৌদ্ধ -খৃষ্টান এবং সকল অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ।।

মোহাম্মদ সালেক পারভেজ
সহকারী  অধ্যাপক
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি, ঢাকা ১২০৭  
ই-মেইল: sparvez@daffodilvarsity.edu.bd

১ম প্রকাশঃ breakingnews-bd.com ২৯ নভেম্বর ২০১৩,
লিঙ্কঃ
http://breakingnews-bd.com/article/detail/186a157b2992e7daed3677ce8e9fe40f#.UqFbCCciorg

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন